স্যারের চা নাস্তা বাবদ প্রত্যেকে ৫০০+৮০০+৬০০ টাকা দিবেন,অথবা এক মাস পরে আসবেন বাধ্য হয়ে ঘুষ দিতে হয়েছে

ঘটনা ০১) ২০১৮ সালের নভেম্বর মাস, MATS থেকে মেডিকেল এসিস্ট্যান্ট কোর্স শেষ করে এই সরকারি অফিসে যেতে হয় সার্টিফিকেট তুলতে, এখানে সাধারণত ডিপ্লোমা মেডিকেল এসিস্ট্যান্ট,নার্স এদেরকে নানাভাবে হ্যানস্তা করা হয়। প্রভিশনাল সার্টিফিকেট উঠাতে সকাল ১০ টা থেকে এখানে অপেক্ষা করা হয় এবং বিকাল ৪ টা পর্জন্ত বসে থাকার পর, উপস্থিত দপ্তরি আমাকে বলে যে স্যারকে চা নাস্তা বাবদ কিছু দিলেই সার্টিফিকেট হাতে পেয়ে যাবেন। অতঃপর ৫০০ টাকার চা নাস্তা খরচ দেবার পর প্রভিশনাল সার্টিফিকেট হাতে পায় আমি। উলেক্ষ্য উনি প্রথমে ৭০০ টাকা চেয়েছিলেন কিন্তু দরদাম বার্গেনিং করে তবেই সেটা ৫০০ টাকায় নেমে আসে। ঘটনা ০২) ২০২০ সালের জানুয়ারি মাস, ডিপ্লোমা সার্টিফিকেট এর অরিজিনাল কপি উঠানোর জন্য সকল কাগজপত্র নিয়ে পুনরায় এই অফিসে যাওয়া লাগলো, একই স্টাফ একই অফিসার, একই ঘটনা, সকাল ১০ টা থেকে বসে বসে অপেক্ষা করার পর বিকাল ৪ টা বাজলে দপ্তরি এসে বললেন, স্যারকে চা নাস্তা বাবদ কিছু খাওয়ালেই উনি সার্টিফিকেট দিয়ে দেবেন। এবার চার নাস্তা বাবদ ৮০০ টাকা দেয়া লাগলো। এদিন আমি ওই অফিসে ঝুলিয়ে রাখা দুর্নিতি দমন কমিশনের রিপোর্ট বক্স দেখেছিলাম, সেখানে খাটি বাংলা ভাষায় স্টাফ ও অফিসারের নাম সহকারে এই চা নাস্তা খাবার কাহিনি লিখে রিপোর্ট জমা করেছিলাম। মনে হয়না কাজ হয়েছিল। ঘটনা ০৩) ২০২৩ সালের জুলাই মাস, পুনরায় এই স্টেট মেডিকেল ফ্যাকাল্টি অফিসে যেতে হয়, একই স্টাফ একই অফিসার। এবার কাজ ছিল ট্রান্সক্রিপ নিয়ে। বরাবরের মত বহু অপেক্ষা শেষে এবারো বিকাল ৪ টায় চা নাস্তা বাবদ ভদ্রলোক অফিসার কে ৬০০ টাকা ঘুষ দিতে হয়। এদিন আমি উনাকে খুব অপমান জনক কথা শুনিয়েছিলাম, অথচ লোকটা কি বিশ্রিভাবে হেসেই চলেছিল। এই ফ্রাস্ট্রেশন লিখে বুঝানো যাবেনা। এই দিনো আমি রিপোর্ট বক্সে রিপোর্ট লিখে জমা দিয়েছিলাম। পরিশেষে, আমার এই ঘটনা আরো অনেক ডিপ্লোমা মেডিকেল এসিস্ট্যান্ট ও নার্সদের সাথে প্রতিদিন ঘটেই চলেছে। "চা নাস্তা বাবদ কিছু খরচ দিলেই হবে" এই ভাবে প্রতিদিন উক্ত অফিসের স্টাফ থেকে শুরু করে অফিসার সকলেই হাজার লাখ টাকা ঘুষ নিয়ে থাকে। ব্যাপারটা এরকম যে যদি ৭ জন একসাথে যায় সার্টিফিকেট উঠাতে, তো বিকাল ৪ টা বাজলে প্রত্যেকে কাছ থেকে "চা নাস্তা" বাবদ ৫০০-১০০০ টাকার ঘুষ আদায় করে তবেই সার্টিফিকেট ছাড়া হয়। আরেকটা উপায় হল যদি কেউ ঘুষ দিতে না চায় তো ১৫ দিন থেকে ১ মাস পর সেই অফিসে গেলে তখন উক্ত কাগজ পাওয়া যায়। এখন এইটা কি কোনো যুক্তিসংগত সলুশন হল? আমি জানি এই সাইটে আমার এই রিপোর্ট পাব্লিশ হবার পরেও কোনো সমাধান হবেনা। এত দিন পর্জন্ত যখন সামাধান হয়নি এবারো হবেনা। আমি রিপোর্ট করলাম, নিজের মনকে শান্ত করতে যে এট লিস্ট এই অভাগার দেশে এরকম ডিজিটাল মাধ্যমে রিপোর্ট করার সিস্টেম রয়েছে। এবং অন্যারের বিরুদ্ধে জীবিত অবস্থায় রিপোর্ট করেছিলাম। এটাই মনের শান্তনা।

জড়িত বলে উল্লেখ করা হয়েছে: মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন, মোঃ গোলাম মাহমুদুল হাসান, মোঃ ইমরুল কায়েস,

রিপোর্টকারীর দাবি — Ghush.xyz এটি স্বাধীনভাবে যাচাই করেনি।

বিবরণ
টাকার পরিমাণ ৳১,৯০০
যে কাজের জন্য ডিপ্লোমা মেডিকেল এসিস্ট্যান্ট প্রভিশনাল ও অরিজিনাল সার্টিফিকেট এবং মার্কশিট উত্তোলন,সার্টিফিকেট সত্যায়িত করন
অফিস বাংলাদেশ রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা অনুষদ,২০৩, শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সরনী, ঢাকা - ১০০০
দপ্তর সরকারি হাসপাতাল
বিভাগ ঢাকা
থানা / উপজেলা পল্টন
রিপোর্টের তারিখ ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কতজন দেখেছেন ১ বার
নিশ্চিতকরণ ২ জন
এই দপ্তরের সব রিপোর্ট

মন্তব্য

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

মন্তব্য সবাই দেখতে পাবে। নাম না দিলে বেনামী হিসেবেই থাকবে। কারও নাম, ঠিকানা বা ফোন নম্বর লিখবেন না।

একই দপ্তরের আলোচিত রিপোর্ট

সরকারি হাসপাতাল

Tongi Gov. Hospital

one Dr. asked 2000 taka for given my father's death certificate :(

ঘুষ দিয়েছি
Tongi ৳২.০ হাজার
২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১,১১৩
সরকারি হাসপাতাল

রোগি ভর্তিকরণ

রোগী ভর্তি করাতে যেয়ে উনারা বলতেছিলো সিট খালি নেই। পরে একজন আয়াকে ৫০০ টাকা দিতেই উনি ভিতরে গিয়ে নিজে কেমনে কী করে আসলো। সিট পেয়ে গেলাম

ঘুষ দিয়েছি
সিলেট ৳৫০০
২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৮৬৩
সরকারি হাসপাতাল

Getting a bed

Asked for 500 to get me a bed for my son

ঘুষ দিয়েছি
Dhaka ৳৫০০
২০ আগস্ট ২০২৬ ৪৯৫
সরকারি হাসপাতাল

ছাড়পত্র

কিডনি বিভাগে ভর্তি হয়েছি। তারপর ছাড়পত্র আনার সময় ওয়ার্ল্ড বয় চা নাস্তা বাবদ কিছু টাকা দাবি করে।। তারপর তা পরিশোধ করি।

ঘুষ দিয়েছি
খুলনা মেডিকেলে ৳১০০
২৪ আগস্ট ২০২৬ ৪৬৪