আমি একটা চিঠি নিয়ে যাই। বিআরটিএ থেকে এই চিঠির উত্তর আনতে বলেছে। গেলাম চট্রগ্রাম কাস্টমস শাখায়। সেখানে চিঠি ইস্যু করাতে হবে বলল এক লোক। চিঠি ইস্যু করতে ৫০০ লাগবে। আমি বললাম কেনো, সেটার উত্তর নাই সবাই দিচ্ছে আর ইস্যু করাচ্ছে। করাইলাম ইস্যু তারপড়ে আমাকে পাঠালো ৮বি শাখায়। সেখানে বলল এটার তো অনেক কাজ আছে ৭/৮ দিন সময় লাগবে। আমি বললাম আমি তো ঢাকা থেকে আসছি একটু দ্রুত করেন। তখন সেখান কার একটা ছেলে বলল ১০০০০ দিবেন এখনি করে দিচ্ছি। ওখান কার অফিসার আর স্বাক্ষর করে নাহ। তারপড়ে তার পিয়ন বলল ৫০০০ দেন আমি স্যারকে দিয়ে করায় দিচ্ছি। আমি বাধ্য হয়ে তাকে ৪০০০ দিলাম,,, তখন সে স্বাক্ষর করে আমাকে দিলো। এটাই সরকারি অফিস।
প্রতিমাসে Into Bond & Ex-Bond করতে অফিসারদেরকে এরকম টাকা দেওয়া লাগে।
জেটি কাস্টমস চট্টগ্রাম এর জয়েন কমিশনার — এর ছত্রছায়ায় অসাধু কর্মকর্তাদের একটি চক্র পণ্য পরীক্ষণে বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায় করছে। নাহলে অযথা বিলম্ব করে নানাভাবে হয়রানি করে। এজন্য পণ্য খালাসে বিলম্ব হচ্ছে। অহেতুক মামলার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
চট্টগ্রাম কাস্টম এর শুল্কায়ন গ্রুপ ৪ এর সহকারী কমিশনার — একটি পণ্য চালান ছাড়ের ১৫০০০০ লক্ষ টাকা দাবি করেন। পরবর্তীতে পণ্য ডেমারেজ এর কথা চিন্তা করে ১২০০০০ টাকা দিয়ে সমাধান করা হয়। এই গ্রুপে অযথা পণ্য শুল্কায়ন ফাইলে হয়রানি হতে হয়।
আমাদের কোম্পানীর একটি আমদানীকৃত মেশিনারি আমদানী পযায়ে এইচএস কোড ভূল ভাবে মূল্যায়ন করে আমদানী টেক্স বাবাদ প্রায় ১৫০,০০,০০০/- দাবী করা হয়। যা শতভাগ অন্যায় ছিল। কিন্তু আমাদের কোম্পানী নিরুপায় হয়ে ১৬,০০,০০০/- ঘুষ প্রদান করে উক্ত চালানটি ছাড় করাতে বাধ্য হয়। তা না হলে আমাদের কোম্পানীর আর ও বড় ক্ষতি হত। হ্যাঁ আমরা স্বীকার করছি কাজটি অন্যায় কিন্তু এ ছাড়া আমাদের আর কোন উপায় ছিল না। আমরা যদি কাস্টমস এর সঙে এই ব্যাপারে উচ্চতর আপিল করে উক্ত চালানটি ছাড় করাতে যেতাম তা হলে অনেক সময় লাগত। ততদিনে বন্দর এর ডেমারেজ এবং শিপিং লাইনের ডেমারেজ সহ উক্ত মেশিনারি দ্বারা যেই পণ্য উৎপাদন করা হবে তাও হত না। এসব কথা বিবেচনা করে আমাদের কোম্পনী ঘুষ প্রদানে বাধ্য হয়।
মন্তব্য ০
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।