বদলী
পুলিশের বদলী বানিজ্য
নাগরিকদের জমা দেওয়া ১৯,০০১ টি ঘুষের অভিযোগ — খুঁজুন, ছাঁকুন, তালিকা বা গ্রিড ভিউতে দেখুন।
পুলিশের বদলী বানিজ্য
আমাদের যে কোন একটি তদন্ত সংক্রান্ত কাজের দায়িত্বভার পড়ে পিবিআই (উত্তরা) এর উপর। তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রথমদিন আমরা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে দেখা করি। তাকে আসার আগে একটি খাম দেই। তিনি খামটি রেখে দেন। খামে ২০০০ টাকা দেই স্বেচ্ছায়। খাম দিয়ে নিচে আসার পর তিনি ফোন দিয়ে উপরে যেতে বলেন এবং টাকা নিয়ে যেতে বলেন। প্রথমে তিনি খামটা নেন, পরে এমাউন্ট পছন্দ না হওয়ায় রাগ করেন। পরে আরো টাকা একটু জোর করেই দিয়ে আসি যেনো আমাদের তদন্ত ঠিকঠাক ভাবে করে। যা হোক এভাবে ধাপে ধাপে মোট ২০০০০ দেয়া হয়। যদিও লাভ হয় নি।।। হয়তো প্রতিপক্ষ হতে আরো বেশি পেয়েছে।
চাকুরীর যোগদান পত্রের সাথে মেডিকেল সার্টিফিকেট জমা দিতে হবে। এটাকে বলা যায় সিভিল সার্জন এর প্রত্যয়ন পত্র। এই প্রত্যয়ন পত্র আনতে গিয়ে সিভিল সার্জন অফিসারের সহকারীকে পাঁচশত টাকা ঘুষ দিতে হয়েছিল।
আমাদের গার্মেন্টসে প্রতিমাসে Export & Impor এর উপর ভ্যাট দিতে হয়। ভ্যাটের একটা কপি তাদের ভ্যাট অফিসে দিয়ে আসতে হতো, এবং একটা কপিতে Aro এর সিল সাইন করে নিয়ে আসা লাগতো তখন টাকা না দিলে সিল সাইন দিত না, (বলতো আমাদের অফিস খরচ ২০০০টাকা দেন)। প্রায় ২বছর হলো ভ্যাটের কপি ভ্যাট অফিসে জমা না দেয়ার বিষয়ে এনবিআর থেকে একটি পরিপত্র জারি হয়। কিন্তু তার পরেও ভ্যাট অফিস থেকে Aro প্রতি মাসে ফোন দিয়ে অফিস খরচ বাবদ ২০০০ টাকা নেয়।
আমার মামা প্রবাসী।দীর্ঘদিন প্রবাস থেকে দেশে ফেরেছেন। উনার জাতীয় পরিচয় পত্র ছিল না। তাই জাতীয় পরিচয় পত্র বানাতে প্রয়োজনীয় সকল কাগজপত্র নিয়ে উপজেলা নির্বাচন অফিসে যাই। উনারা নানা বাহানায় জাতীয় পরিচয় পত্র বানাতে কাল বিলম্ব করেন। এবং সার্ভার সমস্যা,নতুন আইডি কার্ড এখন হবে না ইত্যাদি বলেন। আমরা বারবার অনুরোধ করার পরে উনাদের একজন কর্মচারী ৩০০০ টাকা দিতে বলেন। এবং ২৪ ঘন্টায় জাতীয় পরিচয় পত্র তৈরী করে দিবেন এই আস্বাস দেন। আমরা বাধ্য হয়ে টাকা দেই এবং জাতীয় পরিচয় পত্র বানাতে সক্ষম হই।
আমি একটা গভীর নলকূপের জন্য আবেদন করি।আবেদন পত্র অফিসে জমা দিতে গেলে বলে এমপি মহোদয়ের সুপারিশ লাগবে।পরে উনার সুপারিশ এনে অফিসে জমা দেয়।জমা দিলে ওখান থেকে বলা হয় এটা আবার এমপি মহোদয়ের কাছে যাবে।উনি একটা তালিকা করে দেবেন।সেই তালিকায় যাদের নাম থাকবে তারা কল পাবেন।পরে আমাকে বলা হয় আপনি যদি কল নিতে চান তাহলে ইঞ্জিনিয়ার সাহেব ২৫০০০ টাকা চেয়েছেন যেখানে ব্যাংকে জমা দেওয়া লাগে ৭০০০ টাকা।মানে ৭০০০ টাকা জিনিস আপনাকে ২৫০০০ টাকায় নিতে হবে।আমি খুবই হতবাক হয়ে যায়।
উপজেলা বাস্তবায়ন কর্তকর্তার কাছে বিল তুলতে গেলে মোট ভিলের ৯-১০% ঘুষ না দিলে স্বাক্ষর করেনা। সহকারী ইঞ্জিনিয়ার, অফিস সহকারী, পিয়ন সবাইকে টাকা দিতে হবে নাহলে কোন ডকুমেন্টস সামনে আগাবেনা। ইউএনও অফিসে কোন চিঠি নিয়ে গেলে নিচে ফ্রন্ট ডেস্কে জমা দিয়ে নিশ্চিত থাকতে চাইলে সেই অফিসের কর্মচারীদের ঘুষ দিতে হবে নাহলে চিঠি ইউএনও পর্যন্ত পৌঁছাবেনা। এই পর্যন্ত আমি ৮ প্রজেক্টের জন্য মোট ১৮ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা দিয়েছি তবুও তাদের মন ভরেনা।
আমি আমার জাতীয় পরিচয়পত্র করতে গেলে আমার কাছ থেকে একজন দোকানদার ২০০০ টাকা চায়। ২০০০ টাকা দিলে নাকি তারা আমার কাজটা করে। আমি নিজে করলে নাকি টাইম নিবে তারা নাকি ১ সপ্তাহের মধ্যে করে দিবে। পরে আমি প্রত্যাখ্যান করি।
আমার ফার্মাসিস্ট কোর্স এর ইউজার আইডিটি তারা আমাকে না দিয়ে বললো যে আমরাই রেজিষ্ট্রেশন নবায়ন করে দিবো 3000 টাকা লাগবে। অথচ রেজিষ্ট্রেশন খরচ মাত্র 700 টাকা। আমি নিজে করতে চাইলে আমার ইউজার আইডিটা দরকার হয়ে পরে। এমতাবস্থায় ইউজার আইডি চাইলে উক্ত অফিসের পিওন “কানকির ছেলে বলে গালি দেয়” এবং বলে “দুচিয়ে দেবো ইউজার” বলে তারিয়ে দেয়।
সরকারি অফিস থেকে অন্য সরকারি অফিসে সেবা পেতে টাকা দিতে হয়। যেমন: পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় হতে সরকারি অফিসের প্রকল্প পাস করতে টাকা দিতে হয়।
আমার মামলার তদন্তের জন্য জাজ সি আই ডি কে দায়িত্ব দেয়। আর সেই রিপোর্ট করতে অফিসার ফরেনসিক এর জন্য ১০ লাখ টাকা নিয়েছে
তারা সরাসরি বলে যে চা পানি খাওয়ার জন্য কিছু দিয়ে যান
মামলা আপোষ মিমাংসা জন্য মিমাংকারীরা টাকা চেয়েছে
আমার ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন এর জন্য আবেদন করেছি আরও ছয় মাস আগে। এখন পর্যন্ত অনেকবার থানা নির্বাচন অফিসে গেলাম কোন কাজ হচ্ছেনা। আজ কেন হচ্ছেনা জিজ্ঞেস করার পর তারা হাদিয়া বা খরচ চেয়েছে তাহলে দ্রুত হয়ে যাবে। সেই খরচের পরিমাণ ২০০০/- টাকা
2025 সালে সংগঠিত শ্রমিক আন্দোলনের সময় কারখানাগুলোর নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশ মোতায়েন প্রয়োজন পড়ে, তৎকালীন পুলিশ সুপার প্রতিটি ফ্যাক্টরি হতে 2 লক্ষ টাকার বিনিময়ে পুলিশ মোতায়েন করেন।
একটি রপ্তানীমুখী ফ্যাক্টরির জন্য এসিড লাইসেন্স প্রয়োজন ছিলো, নীলফামারী ডিসি অফিসের দায়িত্বরতরা ধাপে ধাপে 2 লক্ষ টাকা ঘুষ নেবার পর সনদ প্রদান করে।
সমাজ সেবা অধিদপ্তরর,২০২১ সরকারি প্রতিবদ্ধি ভাতা পায় তখন ১ম বারের মত। সেখান থেকে ৬০০০ টাকা যে অফিসারের মাধ্যমে পাই তিনি নিয়ে নিই।কর্ণপুলী উপজেলা সমাজ সেবা অফিসে।
লাইসেন্স নবায়নের জন্য টাকা চায়। টাকা না দেয়াতে বলে দেরি হবে।
ট্রেড লাইসেন্স বানাতে দেয়ার সময় প্রদান, এটা অনেক বড় একটা চক্র এবং ড্রাইভিং না পাড়া সত্তেও অনেকে লাইসেন্স পেয়ে যাচ্ছে শুধুমাত্র ঘুষ দিয়ে জেটা আমাদের জন্য অত্যান্ত হুমকির। এতো বেশি এক্সিডেন্ট হওয়ার পিছনে এই ব্যাপারটি অনেকাংশে দায়ী, বিষয়টি গুরুত্ত সহকারে দেখবেন আশা করি।
আমার প্রতিষ্ঠানের নাম চৌধুরী প্রিন্টিং প্রেস, স্টেশন রোড, গাইবান্ধা। আমি আমার প্রতিষ্ঠানের বৈধতার জন্য জেলা প্রশাসক বরাবর অফিস কর্তৃক প্রেরিত ফরম মোতাবেক একটি দরখাস্ত করি। সঙ্গে প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র জমা দেই। প্রথমে কোন রশিদ ছাড়া অফিস খরচ বাবদ 2000/- নিয়ে প্রায় 6 মাস ঘোড়ায়। তার পর আমি নিজে ডিসি সাহেবের সঙ্গে দেখা করি এবং তিনি বিষয়টি আমলে নিয়ে ফাইলের কাজ করার নির্দেশ দেন। কাজ শুরু হয়। কাজের চুড়ান্ত পর্যায়ে এসে আমার নিকট 50000/- টাকা দাবি করে আমি টাকা দিতে অস্বীকার করলে আমার কাজটি এখন পর্যন্ত হয় নাই। আমি এখন কি করতে পারি।